নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য হওয়ার অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখমের ঘটনায় করা মামলা ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তাঁর মা। তবে কেন এজাহার ফেরত নেওয়া হলো, তার সদুত্তর দিতে পারেননি কেউ। ভুক্তভোগী পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, এজাহার জমা দেওয়ার পর থেকেই চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল পরিবারটির ওপর। রাতে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করে ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেলের মা পারভীন আক্তারকে হুমকি দিয়ে বলে, 'এজাহারটি প্রত্যাহার করেন, সমস্যা হবে। আর আপনার ছেলে নিরাপদে থাকবে না।'

হুমকির মুখে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন মা। এরপরই তিনি এজাহার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। তবে সরাসরি এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি ভুক্তভোগীর মা। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার ভোরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সদস্য হওয়ার অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলকে সৃষ্টিশীল এক গণপিটুনি দেয় একটি সংগঠন। তাঁকে প্রথমে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শহীদ মিনারের সামনে, এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এম হলের সামনে এবং সবশেষে শাহবাগ থানার সামনে নিয়ে গিয়ে লোহা ও পাইপ দিয়ে পেটানো হয়। এতে তাঁর ডান হাতের আঙুল ভেঙে যায় এবং বাঁ কানে গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে এজাহারে নাম ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ১০ শিক্ষার্থীর। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাইফুল্লাহ, হাসিব আল ইসলাম, সাঈদ আফ্রিদী, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, ফোরকান উদ্দীন মাহিসহ অন্যরা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাইফুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যতিক্রমী এক যুক্তি তুলে ধরেন, 'রাহিদ এখন ছাত্রলীগের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই তাকে মারা যুক্তিযুক্ত। আমরা তাকে আঘাত করেছি তার নিজের ভালোর জন্য। এখানে কোনও অন্যায় হয়নি। হলে তো মা এজাহার প্রত্যাহার করতেন না। আমরা ন্যায়ের পথে হেঁটেছি, আর ন্যায়ের পক্ষেই সবাই আসেন।'

শুধু তাই নয়, অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী হাসিব আল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, 'জুলাই আন্দোলনের সময় রাহিদ আমাদের ওপর হামলায় অংশ নিয়েছিল। তাকে আগেও একবার শিক্ষার্থীরা আটক করে থানায় দিয়েছিলেন। বারবার সতর্ক করেও ওর দল ছাড়েনি। এবার তাই কঠোর ব্যবস্থা। তাকে মেরে আমরা শান্তি এনেছি। সন্ত্রাস দূর করতে সন্ত্রাসই একমাত্র পথ।'

এদিকে এজাহার প্রত্যাহারের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নতুন জামাতের যুব শাখা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক শীর্ষ নেতা তাঁর ব্যাখ্যায় বলেন, 'আমরা ইনসাফ করা লোক। ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে যে কাউকে মারা জায়েজ। এটাই নয়া বন্দোবস্ত।'