ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসান। তবে এই আইনি লড়াইয়ে তিনি যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেখানো পথেই হাঁটছেন, তা নিজেই স্বীকার করেছেন।

মঙ্গলবার রাতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এসএম শাহরিয়ার কবিরের মাধ্যমে বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি ও বিবিসি বাংলার প্রধান সম্পাদক মীর সাব্বির বরাবর এই নোটিশ পাঠানো হয় । গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তাকে ৪০ লাখ টাকার ক্রিপ্টোকারেন্সি থাকার কথা বলা হয়, যা মাহদী সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ।

কিন্তু এই নোটিশের পেছনে তাঁর আসল অনুপ্রেরণা কে? মাহদী হাসান একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান, "ট্রাম্প তো সারাজীবন মিডিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করে শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হয়েই ছাড়লেন। আমিতো শুধু এক কোটি টাকার নোটিশ দিয়েছি। তিনিই আমার রোল মডেল।"

মাহদী আরও অভিযোগ করেন, ওই প্রতিবেদন তার ব্যক্তি ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে। "আমার কাছে ৪০ লাখ টাকার ক্রিপ্টো নেই, আছে ৪০ লাখ টাকার পুরোনো পোস্টার আর মাইক। ওই রিপোর্টের পর থেকে মানুষ জিজ্ঞেস করে, ক্রিপ্টোর টাকা দিয়ে তুই হলি আর্টিজানে কেক খেতে যাস নাই কেন?"— ক্ষোভ ঝাড়েন তিনি।

প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিবিসি বাংলার ঢাকা অফিসের এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, "উনি নোটিশ দিয়েছেন? ওয়েলকাম! আমাদের লিগ্যাল টিম তো অলস পড়ে ছিল। উনি ট্রাম্পের পথে হাঁটলে আমরাও ট্রাম্পের মোকাবিলার পথেই হাঁটব। ব্রিং ইট অন!"

তবে বিবিসির লন্ডন সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, "আমরা খুবই চিন্তিত। এতদিন আমরা যুদ্ধ, সন্ত্রাস আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ কভার করেছি। কিন্তু হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিবের লিগ্যাল নোটিশ? এটা আমাদের জন্য একেবারে নতুন মাত্রার চ্যালেঞ্জ। আমরা জরুরি বিশেষজ্ঞ টিম পাঠানোর চিন্তা করছি।"

মাহদী হাসান অবশ্য ট্রাম্পের মতোই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। নোটিশে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন প্রত্যাহারের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "ট্রাম্প যদি পারেন, আমি কেন পারব না? ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তো ৩৪টা অভিযোগ ছিল, আমার তো একটাও নেই। তারপরও আমি উনার পথেই হাঁটছি। ইনশাআল্লাহ একদিন আমিও প্রেসিডেন্ট হব—অন্তত হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের যদি আবার নিবন্ধন ফিরে পায়!"

প্রসঙ্গত, মাহদী হাসান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই নোটিশ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং ক্রিপ্টো-সংক্রান্ত। "আওয়ামী লীগ নিয়ে যা বলার, অন্য সময় বলব। এখন আমি শুধু আমার ৪০ লাখ টাকার ক্রিপ্টো নিয়ে লড়ছি। যেটা আমার কাছে নাই।"