ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি বিদায় নিতেই ব্রিটেনের বাংলাদেশি সাংবাদিকরা পেলেন এক অনন্য উপহার। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, কমনওয়েলথ বৈঠকে যোগ দিতে লন্ডন পৌঁছে, সাংবাদিকদের এক বক্তৃতায় জানিয়ে দিলেন, "এখন আর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আমরা এখন বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে যা খুশি বলতে পারি। কারণ, ভাষা আন্দোলনের মাস শেষ।"
তিনি বলেন, "আপনারা জানেন, ফেব্রুয়ারিতে আমরা সবাই খুব সিরিয়াস ছিলাম। শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতাম, টুইট করতাম। কিন্তু মার্চ এল, এখন আমরা মুক্ত। এখন আমরা সিলেটি, ইংরেজি, বাংলা—যে ভাষায় ইচ্ছা, সে ভাষায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিতে পারি। এটাই হলো আসল সুখবর!"
এই স্বাধীনতার মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই তিনি লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনার আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। উপদেষ্টা সাহেব সাংবাদিকদের বলেন, "একটা সুখবর হইল যে, এই হাই কমিশনার 'ডিভাইসিস বিহেভিয়ারে' কমিউনিটিকে ডিভাইড করে রাখছে। আওয়ামী করণ করছে এই হাই কমিশনকে। ও আওয়ামী লীগ করণের ধান্ধা নিয়া চলছে, কমিউনিটির ধান্ধা নাই।"
নীল দর্পণের প্রতিবেদক যখন উপদেষ্টা সাহেবকে মনে করিয়ে দিতে চেয়েছিলেন যে এই হাই কমিশনার তো আওয়ামী লীগ নয়, বরং অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োগ করেছিল, তখন উপদেষ্টা সাহেব মুহূর্তে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি ইংরেজিতে বলেন, "দ্যাট ইজ এ টেকনিক্যালিটি. দ্যা মেইন পয়েন্ট ইজ, উই আর নট হ্যাপি উইথ হার পারফরম্যান্স। শি ওয়াজ ট্রাইং টু ডিভাইড দ্যা কমিউনিটি বাই বিহেভিং ডিভাইসিভলি। ইট ইজ আওয়ামী লীগ-স্টাইল গভর্নেন্স।"
উপদেষ্টা সাহেবের ভাষ্যে, এই প্রত্যাহার কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এটি একটি "ভাষাগত প্রতিশোধ"। তিনি বলেন, "আগের সরকার ইংরেজিতে কথা বললে আমরা বলতাম, তারা বিদেশি. আর বাংলায় বললে বলতাম, তারা মাতৃভাষাপ্রেমী। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা অর্ধেক ইংরেজি আর অর্ধেক বাংলায় কথা বলে সবাইকে কনফিউজ করে দেব। এতে কেউ কিছু বুঝতে পারবে না। আর এটাই হবে আমাদের কূটনৈতিক কৌশল।"
প্রসঙ্গত, আবিদা ইসলাম মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ায় রাষ্ট্রদূত এবং কলকাতায় প্রথম নারী ডেপুটি হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু উপদেষ্টা সাহেবের মতে, এই সমস্ত অভিজ্ঞতা "বেকার"। কারণ তিনি সঠিকভাবে কমিউনিটিকে ডিভাইড করতে পারেননি। উপদেষ্টা সাহেব জানান, নতুন হাই কমিশনার নিয়োগের সময় প্রধান শর্ত হবে তাঁকে বাংলা-ইংরেজির মিশ্রণে কমিউনিটি ডিভাইড করার ওপর পিএইচডি থিসিস জমা দিতে হবে।
কমনওয়েলথ বৈঠক প্রসঙ্গে উপদেষ্টা সাহেব জানান, সেখানে তিনি প্রস্তাব দেবেন যে, ব্রিটেনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে বাংলাদেশ এখন থেকে দ্বিভাষিক নীতি গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, "আমরা চাই, ব্রিটিশরাও আমাদের মতো অর্ধেক ইংরেজি আর অর্ধেক বাংলায় কথা বলুক। তাহলে তাদেরও কমিউনিটি ডিভাইড করতে সুবিধা হবে।"
সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের একজন উপদেষ্টা সাহেবের ভাষার মিশ্রণ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বিরক্ত হয়ে বলেন, "ক্যান ইউ প্লিজ স্পিক ইন ওয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ? ইটস কনফিউজিং।" পরে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে হাসিমুখে যোগ করেন, "নো প্রবলেম, ইউ আর ফ্রি নাউ। ফেব্রুয়ারি ইজ ওভার।"
নীল দর্পণ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘোষণার পর লন্ডনের বাংলাদেশি কমিউনিটি দু'ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। একভাগ বলছে, "ওয়েল ডান, ইটস আ টাইম টু চেঞ্জ।" আরেকভাগ বলছে, "কী যে কয়, কিছুই বুঝলাম না।"