চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর—যে নাম উচ্চারণ করেই কাঁপত স্থানীয় প্রশাসন, সেই সলিমপুরে এবার স্বাধীনতার পতাকা উড়ালো বাংলাদেশ। সেনা, পুলিশ, র্যাব মিলিয়ে প্রায় চার হাজার সদস্যের এক যৌথবাহিনী ভোর থেকে সলিমপুরের বুকে তৎপর। সঙ্গে ড্রোন, হেলিকপ্টার, অত্যাধুনিক অস্ত্র—চলল এক ‘ক্ষুদে যুদ্ধ’।
কিন্তু এই সামরিক গৌরবের মাঝে এক প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এত বাহিনী, এত প্রস্তুতি, এত অপারেশন থিয়েটার, শেষ পর্যন্ত যা পাওয়া গেল, তা একেবারেই ‘পর্বতের মূষিক প্রসব’।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে মোট আটক হয়েছে ১৫ জন। উদ্ধার হয়েছে কয়েকটি অস্ত্র। আর সবচেয়ে বড় চমক—সলিমপুরের তথাকথিত ‘অধিনায়ক’ বা ‘রাজা’ অভিযানের আগেই গোটা এলাকা ছেড়ে কাবুল অথবা কোনো গহীন অরণ্যে পাড়ি জমিয়েছেন বলে গুঞ্জন। পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অভিযানের আগেই তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। নেটওয়ার্ক এতটাই শক্তিশালী যে আমাদের পরিকল্পনা তারা হোয়াটসঅ্যাপে পেয়ে গিয়েছিল।”
ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ অবশ্য এই অভিযানকে ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ বলে আখ্যা দিয়ে জানান, জঙ্গল সলিমপুরে এখন থেকে পুলিশ ও র্যাবের স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি। এখন জনগণ নিরাপদে থাকবেন।”
তবে সমালোচকদের ভাষায়, চার হাজার সেনা আর অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র যখন মাঠে, তখন প্রত্যাশা ছিল বড় ধরনের আটক, বড় ধরনের উদ্ধার। কিন্তু যা ঘটল, তা শুধুই এক ব্যয়বহুল প্রদর্শনী, যার মূল্যমান কিছু অনুচ্চ অপরাধীর হাতে হাতকড়া পরানোর বেশি নয়।