বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সাথে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর জন্য বিদেশি বিনিয়োগ সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠকটি রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তবে এই উদ্যোগের পেছনে ব্যক্তিগত সুবিধা, নৈতিকতা এবং ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি অত্যন্ত কৌশলী ও অভিনব ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আরমান সাহেব স্পষ্ট জানান যে, তিনি এখানে এমপি হিসেবে নন, বরং একজন পেশাদার আইনজীবী এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের স্থানীয় সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। এই তদ্বির বা লবিয়িংয়ের বিনিময়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কতটুকু লাভবান হচ্ছেন বা কী ধরনের আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি রহস্যময় হাসি দিয়ে জানান, সব কথা আসলে প্রকাশ করতে হয় না। আমানতদারিতার খাতিরেই তিনি এই গোপনীয়তা বজায় রাখছেন বলে ইঙ্গিত দেন।

সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দপ্তরে ধরনা দেওয়াকে ‘স্বার্থের সংঘাত’ হিসেবে দেখা হচ্ছে কি না—জানতে চাইলে তিনি তার শিক্ষাগত যোগ্যতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমি একজন বিলেত পড়ুয়া ব্যারিস্টার। এখানে স্বার্থের কোন সংঘাত নাই। তার দাবি অনুযায়ী, বিলেতি ডিগ্রিধারী হওয়ার কারণে তিনি অনায়াসেই একই সাথে সংসদীয় দায়িত্ব এবং ব্যবসায়িক তদ্বির চালিয়ে নিতে সক্ষম।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে আলোচিত ‘নয়া বন্দোবস্ত’-এর আদর্শের সাথে তার এই কর্মকাণ্ড কতটুকু সংগতিপূর্ণ, এমন একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি নতুন এক তত্ত্ব দেন। তিনি জানান, সবকিছু শুধু নয়া তরিকায় চলে না; বরং লক্ষ্য অর্জনে আমাদের পুরানো এবং নয়া বন্দোবস্তের এক ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্রণ ঘটাতে হবে। অর্থাৎ, পুরনো আমলের তদ্বির সংস্কৃতি আর নতুন আমলের সংস্কারের বুলি—দুটোকেই তিনি একসাথে হাত ধরাধরি করে চলতে দেখছেন।

সবশেষে, বিলেতি আদব-কায়দা মেনে চলা এই ব্যারিস্টারের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ব্রিটেনে একজন এমপি এভাবে বিদেশী প্রতিষ্ঠানের হয়ে সরাসরি বাণিজ্যিক তদবির করতে পারেন কি না। জবাবে তিনি তার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয় তুলে ধরে বলেন, আমি জামাত করি। আমরা কোন অন্যায় করতে পারি না। আমরা যা করি সবই হালাল। তার মতে, নিয়ত যদি বিনিয়োগ আনার হয়, তবে তদ্বিরের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর।

এই পুরো বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং নগদ কর্তৃপক্ষের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তারা বরাবরের মতোই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।