নতুন করে ভদ্রতা শেখানোর ঠিকাদারি নিয়েছেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। গত ২৬ জানুয়ারি রাজধানীর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে এক পিঠা উৎসবে যোগ দিতে গেলে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি অভিযোগ করেন, মির্জা আব্বাসের সমর্থকেরা এই হামলা চালিয়েছেন । এর আগে জানুয়ারির শেষ দিকেও এক অনুষ্ঠানে হামলার শিকার হন পাটোয়ারী, যেখানে মির্জা আব্বাসেরও যাওয়ার কথা ছিল ।
এর জের ধরে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'ভদ্র হতে শিখুন, আমরা সভ্য সমাজে বসবাস করি অসভ্য আচরণ করবেন না। তুমি কোন চ্যাটের বাল আব্বাস? তুমি আসছো এখানে মানহানীর মামলা করেতে!'
প্রসঙ্গত, এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী 'অশ্লীল ও উসকানিমূলক মন্তব্য' করছেন । তখন মির্জা আব্বাস বলেছিলেন, 'আল্লাহ হয়তো পাটোয়ারীর মাধ্যমে আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন' । পাটোয়ারীর সর্বশেষ বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে, ধৈর্যের সেই পরীক্ষা এখনও চলমান।
নির্বাচনী বিশ্লেষক জাহিদ হোসেন বলেন, 'পাটোয়ারী সাহেব যেন এক হাতে ধরেছেন সভ্যতার শাপলা কলি, আর অন্য হাতে তুলেছেন চ্যাটের বালের লাঠি। এই দ্বৈতসত্তাই আসলে নতুন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। আগে মানুষ পোস্ট ডিলিটের ভয়ে থাকত, এখন মানুষের মুখের ভাষাই ডিলিট হয়ে যাচ্ছে ভদ্রতার নামে।'
ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে লড়েছেন এবং মির্জা আব্বাসের কাছে পরাজিত হয়েছেন। মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ৫৯,৩৬৬ ভোট, পাটোয়ারী পেয়েছেন ৫৪,১২৭ ভোট । এই ফলাফল নিয়ে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছেন পাটোয়ারী, দাবি করছেন—ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে মির্জা আব্বাসকে জয়ী দেখানো হয়েছে ।